কিরণ বেদী - ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগদানকারী প্রথম মহিলা


কিরণ বেদী  


''যদি তুমি সূর্যের মত উজ্জ্বল হতে চাও, তাহলে প্রথমে তোমায় সূর্যের মতোই জ্বলে উঠতে হবে।আমাদের কখনও হাল ছাড়া উচিত নয়। আমরা কখনওই সমস্যাকে আমাদের হারানোর অনুমতি দিতে পারি না।… 'আমাদের জেতার ইচ্ছা যদি দৃঢ় হয়, তবে কখনওই পরজয় আমাদেরকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।'' - ড. এ.পি.জে আব্দুল কালাম স‍্যারের এই কথাগুলি দেশের প্রথম IPS অফিসার কিরণ বেদির জন‍্য সঠিকভাবে প্রযোজ‍্য। 

প্রথম মহিলা পুলিশ অফিসার ( IPS ) :  কিরণ বেদী। ১৯৭২-এ আইপিএস হন।

তিনি ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগদানকারী প্রথম মহিলা। 

২০০৭ সালে তিনি 'পুলিশ গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যুরোর' মহাপরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন। 


জন্ম ও বংশ পরিচয় 

জন্মস্থান: অমৃতসর, পাঞ্জাব, ভারত-এ হিন্দু ক্ষেত্রি পরিবারে (Khatri Family) জন্মগ্রহণ করেন। 

জন্ম তারিখ,সাল :  ৯ ই জুন ১৯৪৯। 

ভাই-বোন : তাঁরা মোট চার বোন ছিলেন।  শশী, কিরণ,রীতা ও অনু। 

রীতা পেশোয়ারিয়া টেনিস খেলোয়াড় ও লেখক, ছোট বোন নু পেশোয়ারিয়া টেনিস খেলোয়াড় ও ভারতীয়-আমেরিকান আইনজীবী। 

পিতা : প্রকাশ লাল পেশোয়ারিয়া, পেশায় কাপড় ব‍্যাবসায়ী ছিলেন। জীবনের প্রথম দিকে টেনিস খেলতেন। টেনিসের রাষ্ট্রীয় চ‍্যাম্পিয়ন ছিলেন।

মাতা : প্রেমলতা পেশোয়ারিয়া (আরোরা) । ব্যাডমিন্টন (Badminton)  খেলোয়ার ছিলেন। 

প্রপিতামহ : লালা হরগোবিন্দ পেশোয়ারিয়া 

স্বামী : ব্রিজ বেদী। ১৯৭২ সালে কিরণ পেশোয়ারিয়াকে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। 

সন্তান  : একমাত্র মেয়ে, সাইনা (জন্মের পর নাম রাখা হয়েছিল সুকৃতি।)। 

 

শিক্ষাজীবন 


প্রাথমিক শিক্ষা : ১৯৫৪ সালে অমৃতসরের সেক্রেড হার্ট কনভেন্ট স্কুলে তার আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করেন।

ম্যাট্রিকুলেশন : যখন ৯ম শ্রেণীতে পড়েন, তখন তিনি কেমব্রিজ কলেজে যোগ দেন এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল যেখানে মূলত বিজ্ঞান শাখার বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হত এবং শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেনীর মূল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করানো হত। যে সময় কিরন বেদীর সহপাঠীরা নবম শ্রেনীর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সেই সময় কিরন বেদী দশম শ্রেনী উত্তীর্ণ করে যান।

বিএ (সম্মান) :  ১৯৬৮ সালে অমৃতসরের সরকারি কলেজ ফর উইমেন থেকে ইংরেজিতে  স্নাতক হন।

এমএ : ১৯৭০ সালে তিনি চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এলএল.বি : ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় তাঁর কর্মজীবনের সময়, তিনি ১৯৮৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে আইনের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন

পিএইচডি  ১৯৯৩ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি  থেকে দিল্লির সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

টেনিস খেলা ও কিছু ঘটনাঃ 




১৯৬৪ সালে দিল্লির জিমখানায় জাতীয় জুনিয়র লন টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে তার খেলোয়াড় জীবন শুরু করেন।

১৯৬৬ সালে জাতীয় জুনিয়র লন টেনিস” প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। 

"অল-ইন্ডিয়া ইন্টারভার্সিটি টেনিস টাইটেল" (১৯৬৮), "নর্দার্ন ইন্ডিয়া লন টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ" (১৯৭০), এবং "ন্যাশনাল উইমেনস লন টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ" সহ বেশ কয়েকটি টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন।১৯৭৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে "লিওনেল ফনসেকা মেমোরিয়াল ট্রফি" প্রতিযোগিতায় ভারতীয় বিজয়ী দলের তিনি একজন সদস্যা ছিলেন। 

১৯৬৫ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে তিনি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন শিরোপা জিতেছিলেন।


তাঁর পরিবারের সকলেই খেলাধূলা পছন্দ করত, যাকে বলে 'খেলাপ্রেমী'! তাঁর পিতার টেনিসের রাষ্ট্রীয় চ‍্যাম্পিয়ন ছিলেন এবং মা ব্যাডমিন্টন খেলোয়ার ছিলেন।খেলার পরিমণ্ডলে বড় হতে থাকা কিরণ বেদী মাত্র ৯ বছর বয়সে টেনিস খেলতে শুরু করেন। তিনি জাতীয় ক‍্যাডেট কর্পসে [ National Cadet Corps (NCC) ] যুক্ত হন এবং বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে  (co-curricular activities) অংশ গ্রহন করতেন। স্কুলের ছুটির পর তাঁর পরিবার টেনিস কোচিং সেন্টারে মিলিত হত। তাঁর মা একটা বড় ব‍্যাগে তাঁদের প্রয়োজনীয় সব জিনিস নিয়ে আসতেন। যেমন - গরম দুধ, ফল, টেনিসের পোশাক ইত্যাদি। স্কুল ছুটি হওয়ার সাথে সাথেই তিনি ও তাঁর ছোট বোন রীতা টেনিস কোর্টে পৌঁছে যেতেন। একের পর এক লাইন দিয়ে টেনিস কোর্টে খেলতে হত। তাঁরা নিজেদের পালা আসার অপেক্ষায় অযথা সময় নষ্ট না করে টেনিস কোর্টের পাশে বসে বিদ‍্যালয়ের বাড়ির কাজ করতে শুরু করে দিতেন। ১৪-১৫ বছর বয়সে তাঁকে টেনিস প্রতিযোগিতায় খেলার জন‍্য সারা দেশে ঘুরতে হত। সেইসময় তাঁদের এত পয়সা ছিল না। তাই রিজার্ভেশন ছাড়াই ট্রেনে সফর করতে হত। থার্ড ক্লাসে যাওয়ার একটাই সুবিধা ছিল যে,শিক্ষার্থী বলে টিকিটের টাকা ছাড় পেতেন। তবে সেইজন‍্য একটা ফর্ম ফিল আপ করতে হত, সেই ফর্ম 'টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের' কাছ থেকে পাওয়া যেত। সেই ফর্ম ভরে টিকিটের দাম অর্ধেকরতে তাঁকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। প্রতিদিন দীর্ঘ  লাইন দিতে হত। কোনো কোনো দিন পুরো দিনটাই লাইন দিয়েই কেটে যেত। একটা দিন বেকার নষ্ট হত। বাকি প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজ সেইসব দিনে আর হত না। তিনি রাগে বেঞ্চের উপর ঘুসি মারতেন। অবশেষে সেইদিন এল যেদিন তিনি সেক্রেটারি স‍্যারের সাথে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর দেখা করার সুযোগ পেলেন। তিনি সেই সেক্রেটারি মহাশয়কে গিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন,' স‍্যার, আমি আপনার কাছে এটা শিখেছি যে, আমাকে সবসময় অন‍্যের প্রয়োজনের সম্মান করতে হবে। বড় হয়ে আমি কখনও কাউকে এইভাবে অপেক্ষা করাব না। আমি অন‍্যের সময়ের গুরুত্ব বুঝব।' এই কথা বলার জন্য সেক্রেটারি খুব রেগে যানফলস্বরূপ উইম্বলডনে খেলার জন‍্য তাঁর পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড়ের নাম পাঠানো হয়।কিরণ বেদী ততদিনে টেনিসের জুনিয়র ন‍্যাশনাল চ‍্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর উইম্বলডনে খেলার জন‍্য নাম পাঠানোর নিয়ম ছিল। উইম্বলডনের মত বড় ইভেন্টে খেলা তাঁর স্বপ্ন ছিল।  নিজের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় তিনি খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। এরপর তিনি ঠিক করলেন যে, তিনি ভালো করে পড়াশোনা করবেন। আগের চেয়েও আরও মন দিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলেন। ফলে তিনি ক্লাসে 'প্রথম' হলেন। পরবর্তীকালে তিনি এই ঘটনা মনে করে তাঁর এই সাফল্যের জন‍্য সেক্রেটারি মহাশয়কে ধন্যবাদ দেন। কারণ, তিনি তাঁকে বাদ না দিলে পড়াশোনা এত মন দিয়ে করতে পারতেন না, আজকের জায়গাতে প‍ৌঁছাতেও পারতেন না। এরসাথে তিনি শিখেছিলেন অন‍্যের সময়ের গুরুত্বকে সম্মান দিতে।পরবর্তীকালে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন দায়িত্ববান সময়কে মূল‍্য দেওয়া পুলিশ অফিসার


বয়কাট চুল ও কিছু ঘটনা  


তখনকার তাঁর সব বান্ধবীদের লম্বা লম্বা চুল ছিল। তাঁরও লম্বা চুল ছিল। তবে অন‍্যদের মতো তিনি চুল ঠিক মতো সামলাতে পারতেন না। ছোট ছোট অনেকগুলি পিন দিয়ে চুন এঁটে রাখলেও মুখের মধ্যে এসে ঝামেলা করত, এতে তিনি খুব বিরক্ত হতেন। টেনিস খেলার সময় বেশি অসুবিধাতে পড়তেন। একটি দুপুরে টেনিস খেলার সময় চরম বিরক্ত হয়ে মা-বাবার অনুমতি নিয়ে সেলুনে গিয়ে চুল কেটে ফেলেন। ছোট চুলে তিনি খুব শান্তি পেয়েছিলেন! কারণ, এরপর তিনি মন দিয়ে টেনিস খেলতে পারতেন! পরবর্তীকালে তাঁর এই 'বয়কাট' চুল অনেক মেয়েদের ফ‍্যাশন ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছিল! জীবনে অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে তিনি বুঝেছিলেন যে, কম বয়সে চুল কাটার সিদ্ধান্তের মতো আপাত সাধারণ ঘটনা তাঁকে জীবনে প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর গুরুত্ব দিতে শিখিয়েছিল।  তাঁর কাছে সুন্দর দেখার থেকে ভালো খেলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 'বয়কাট' চুল, ঢিলেঢালা ছেলেদের মতো জামা-প্যান্ট জুতো পরার জন‍্য অনেকেই তাঁকে ছেলে বলে ভুল করত। এইজন‍্যই অনেক বার তিনি বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। একবার অবশ‍্য বিপদে পড়েছিলেন। ট্রেনের লেডিস কামরাতে ঠার পর মহিলারা তাঁকে ছেলে ভেবে উত্তমমধ‍্যম দিয়ে স্টেশন থেকে নামিয়ে দিয়েছিল। 

কর্মজীবন ও কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা 


তাঁর কর্মজীবন বৈচিত্র্যময়। নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেও বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে নি। বারবার বিভিন্ন সমালোচনার সম্মুখীন হয়েও তিনি এগিয়ে গিয়েছেন। 


সিভিল সার্ভিস ক্যারিয়ার

কিরণ বেদী  ১৯৭২ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (IPS) অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি মুসৌরির 'ন্যাশনাল একাডেমি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশ'-এ তাঁর পুলিশ প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ফাউন্ডেশন কোর্সের পর, তিনি রাজস্থানের মাউন্ট আবুতে ৯ মাসের প্রশিক্ষণের জন্য যান। তিনি ৮০ জন পুরুষের ব্যাচে একমাত্র মহিলা ছিলেন এবং AGMUT (অরুণাচল প্রদেশ-গোয়া-মিজোরাম-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল) ক্যাডারে রূপে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। 

কর্মজীবনে তিনি খুব কম ছুটি নিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম পোস্টিং ছিল দিল্লির চাণক্যপুরী মহকুমায় যেখানে তিনি ১৯৭৫ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে দিল্লি পুলিশের সর্ব-পুরুষ দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম মহিলা হয়েছিলেন। ১৫ ই নভেম্বর ১৯৭৮-এ, যখন দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের কাছে নিরঙ্কারিদের একটি দল অকালি শিখদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন বেদি বিক্ষোভকারীদের থামাতে এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করতে একটি প্লাটুন মোতায়েন করেন। ১৯৭৯ সালে, কিরণ বেদিকে পশ্চিম দিল্লিতে পোস্টিং করা হয়েছিল। সেখানে অপরাধের মাত্রা প্রবল পরিমাণে ছিল, সেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যথেষ্ট অফিসার ছিল না। বেদি আশেপাশের গ্রামে বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেন। বেসামরিক এবং সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের দ্বারা রাতের টহল চালানোর ব‍্যবস্থা করা হয়। সমস্ত ওয়ার্ডে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয় এবং নাগরিকদের যাতে সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারে তারজন্য একটি খোলাদরজা নীতি ( open door system) বাস্তবায়ন করেন যা জেলার অপরাধ কমাতে সহায়তা করেছিল। সেখানে তিনি নারীদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধও শক্ত হাতে দমন করেছিলেন। ১৯৮১ সালের অক্টোবরে, যখন কিরণ বেদিকে দিল্লির ডিসিপি (ট্রাফিক) করা হয়েছিল। তিনি দক্ষতার সাথে ১৯৮২ এশিয়ান গেমসের কারণে সৃষ্ট ট্র্যাফিক সংকটগুলি পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে, তাঁকে ৩ বছরের জন্য গোয়াতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগী আর কে ধাওয়ান এবং যশপাল কাপূর সহ কিছু সিনিয়র অফিসার তাঁর বদলির পিছনে ছিলেন। গোয়াতেও তিনি সিএইচওজিএম-এর জন্য ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সামলেছেন। ১৯৮৬ সালে, যখন তিনি দিল্লির উত্তর জেলার ডিসিপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি মাদকের ভয়কে কাটিয়ে উঠতে অনেকগুলি ডিটক্স সেন্টার চালু করেছিলেন। তাঁকে একটি নতুন পদে স্থানান্তরিত করার আগে, বেদী, কয়েকজন পুলিশ অফিসারের সাথে "সংশোধন, আসক্তি মুক্ত ও পুনর্বাসনের জন্য "নবজ্যোতি পুলিশ ফাউন্ডেশন" হিসাবে ডিটক্স কেন্দ্রগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক করে তোলেন এবং ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হন। 

ক্রেনবেদী

১৯৮২ সাল, নবম এশিয়ান গেমস,  ভারতের দিল্লিতে ১৯শে নভেম্বর থেকে ৪ঠা ডিসেম্বর ১৯৮২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল।ভারত ৭৪টি এশিয়ান গেমসের রেকর্ড ভেঙেছিল এই প্রতিযোগিতায়'অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া'-এর তত্ত্বাবধানে এটিই প্রথম এশিয়াড ছিল। ভারতের গুরুত্ব বিশ্বের মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়ছিলএকটি আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে তা আরও মহিমান্বিত হয়ে গিয়েছিল। তখন কিরণ বেদি পুলিশের পেশায় কর্মরত।  রাজ‍্যপাল মহাশয় একদিন হঠাৎ তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তিনি বুঝতে পারলেন না কেন ডেকেছিলেন। যাইহোক, যথারীতি রাজ‍্যপাল মহাশয়ের সাথে দেখা করলেন এবং বুঝলেন তাঁকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব ঠিক মতো পালন না করলে দেশের বদনাম হবে দায়িত্বটা হল - এশিয়া গেমসের আর এক বছর বাকি ছিল। অন‍্যদিকে দিল্লির ট্রাফিকের অবস্থা খুব খারাপ। রাজ‍্যপাল মহাশয়ের কিরণ বেদীর উপর ভরসা ছিল। তাই তিনি চেয়েছিলেন কিরণ বেদী দিল্লির ট্রাফিক ব‍্যবস্থা ঠিক করার দায়িত্ব নি। এরপর তিনি পুরো শক্তি দিয়ে কাজে নেমে পড়লেন। লাউড স্পিকার ও মাইক লাগানো সাদা অ্যাম্বাসেডর গাড়িতে চড়ে রোজ সকাল ৮ টা থেকে কাজে নেমে পড়তেন। যখন যেখানে যেমন দরকার মাইক লাগিয়ে ট্রাফিক ঠিক করার চেষ্টা করতেন। সেইসময় তিনি ১৯ ঘন্টা কাজ করতেন দিল্লির লোকেদের এইরকম কাজ ভালো লেগেছিল। তিনি ট্রাফিকের মসৃণ প্রবাহ নিশ্চিত করতে দিল্লি ইলেকট্রিক সাপ্লাই আন্ডারটেকিং, মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন এবং দিল্লির উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসূত্র সমন্বয় করেছিলেন। ট্রাফিক ঠিক করতে হলে গাড়ির ঠিকঠাক পার্কিং করাও জরুরি ছিল। তাই তিনি ঠিক করলেন, বৈধভাবে দাঁড়ানো গাড়িগুলি 'ক্রেন' দিয়ে সরিয়ে দেবেন। পুলিশের কাছে এত ক্রেন ছিল না, তাই তিনি শহরের সব বেসরকারি ক্রেন ভাড়া নিয়ে নিজের কাজ নিষ্ঠা সহকারে করে গেছেন! সেইজন‍্যই তাঁর নাম হয় 'ক্রেনবেদী'। বেদী অনিয়মিত গাড়িচালকদের জন্য স্পট জরিমানা এবং অনুপযুক্তভাবে পার্ক করা যানবাহন টোয়িং সহ চালান প্রতিস্থাপনের মতো নীতিও চালু করেছিলেন। বেদী স্পনসরদের সহায়তায় ,৫০০,০০০ মূল্যের ট্রাফিক নির্দেশিকা সামগ্রী এবং শিক্ষামূলক সামগ্রীর জন্য একটি তহবিলের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি দিল্লি পুলিশের ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত ইন্সপেক্টরদের সাথে প্রথম চার চাকার গাড়ির পরিচয় করিয়ে দেন। 

 কাজ করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন

এইকাজ করতে গিয়ে তিনি বিতর্কের মধ্যে পড়লেন একবার এক গণ‍্যমান‍্য ব‍্যক্তির (V.I.P) গাড়ি ভুলভাবে রাস্তার পাশে দাঁড় করানো ছিল। গাড়িটি খারাপ হয়ে গিয়েছিল, তাই গাড়ির চালক গাড়িটি সারাচ্ছিল। এক কর্তব্যরত সাব ইন্সপেক্টর গাড়িটি ক্রেন দিয়ে থানায় তুলে নিয়ে গেলেন আর সেই চালকের উপর জরিমানা লাগিয়ে দিলেন। গাড়িটি যে সে ব‍্যক্তির ছিল না, ছিল তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর এইখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক  কিরণ বেদী, কর্তব্যরত সাব ইন্সপেক্টরকে সমর্থন করেছিলেন।কারণ, তাঁর মনে হয়েছিল সাব ইন্সপেক্টর পুরো আন্তরিকভাবে নিজের কর্তব্য পালন করেছিল। এই ঘটনার জন‍্য চারদিকে প্রচুর সমালোচনা হয়। কেউ সমর্থন করেছিল, কেউ নিন্দা করেছিল।

কিরণ বেদীর মনে হয়েছিল, তিনি যা করেছিলেন একদম ঠিক করেছিল কারণ তিনি সত‍্যের পথে ছিলেন

তিহার জেল : 



তিহার জেল - ভারতের একটি  নামকরা সংশোধনাগার! ১৯৯৩ সালের মে মাসে তাঁকে দিল্লি কারাগারে ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি তিহার কেন্দ্রীয় কারাগারে বেশ কয়েকটি সংস্কারের সূচনা করেছিলেন, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল এবং ১৯৯৪ সালে তিনি 'রামোন ম্যাগসেসে' পুরস্কার লাভ করেছিলেন। 

তিহার জেলে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কথাতেই শুনি

"অন্ধকার গলির মধ্যে আমার আগে আগে কারাপাল (jail warden) মহাশয় যাচ্ছিলেন।  দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে যাওয়া খোলা নালির দুর্গন্ধে আমার দম আটকে আসছিল। তাড়াতাড়িই আমরা একটি খোলা জায়গায় এসে পৌঁছালাম।  সেইখানে কয়েকশ জেলবন্দী ডোরাকাটা কাপড় পরে দাঁড়িয়েছিল। সবাই অবাক হয়ে আমাকে দেখছিল। নিঃশব্দতা ভেঙে কারাপাল জোর গলায় আদেশ দিলেন। এই ছিল তিহার জেল। যেখানে ২,৫০০ জেলবন্দীর থাকার জায়গা ছিল সেখানে ১০,০০০ এরও বেশি বন্দী ঠুসে রেখেছিল। আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি পৃথিবীতে নরক বলে কিছু থাকে, তবে বোধহয় এইটাই নরক! আর তখন আমি বুঝতে পারলাম আমাকে দিল্লির বদনাম তিহার জেলের ইন্সপেক্টর জেনারেল মানে আইজি কেন বানিয়েছে। বন্দীদের অবস্থা ঠিক করার জন‍্য আমাকে কিছু করতে হবে। আমি জানতাম এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ‍্যালেঞ্জ হবে। 

আমি রোজ বন্দীদের সাথে দেখা করতে যেতাম। আমাকে বলা হয়েছিল আমার আগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কখনও জেলের মধ্যে আসতেন না। 

প্রথম প্রথম বন্দীরা আমার চারপাশে জড়ো হয়ে তো দাঁড়াত কিন্তু কারাপালদের ভয়ে কথা বলত খুব কম। আমি বন্দীদের দলের মধ্যে গিয়ে বসতাম আর ওদের সমস্যাগুলি সম্পর্কে কথা বলতাম। আমি জানতাম যে, পরিষ্কারের ব‍্যবস্থা ও জেলের অবস্থা উন্নতি করা ছাড়াও আমাকে বন্দীদের কাজে ব‍্যস্ত রাখতে হবে। কারণ, যাতে তারা ফালতু লড়াই ঝগড়াতে না পড়ে। আমি ওদের জন‍্য জেলেই কিছু সরল, কিন্তু কার্যকর উপায়ের সূচনা করি। যেমন বিচরণ করা, খেলার আয়োজন, নাচ-গান ও অভিনয় করা ইত্যাদি। 

খুব তাড়াতাড়িই আমি বিশ্বস্ত কিছু অফিসারদের দল তৈরি করে নিয়েছিলাম, যাঁরা আমাকে এইসব কাজে সাহায্য করত। 

আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ধর্মকে  আধার করে তৈরি হওয়া দল ও ওদের নিজের মধ্যের শত্রুতা। এই সমস্যা শেষ করার জন‍্য আমরা সব ধর্মের উৎসব যেমন- রাখী, হোলি, ইদ, ক্রিসমাস মিলেমিশে পালন করতে শুরু করে দিয়েছিলাম। এতে বন্দীদের একে অপরের ধর্মীয় রীতিনীতি বুঝতে সহায়তা করেছিল। আর শুধুমাত্র এইটাই নয় ওরা এইসব উৎসবের অংশীদার হয়ে খুশিও অনুভব করতে শুরু করেছিল। 

আমি বন্দীদের জন‍্য অনেক বইয়েরও ব‍্যবস্থা করেছিলাম। এরপর তো অনেক ইউনিভার্সিটি বন্দীদের জন‍্য বিশেষ কোর্সের ব‍্যবস্থা করেছিল। 

আমরা 'ধ‍্যান' করার অভ‍্যাসও শুরু করেছিলাম। যাতে তারা আরও ভালো করে চিন্তা ভাবনা করতে পারে। আর সাজা কাটার পর যাতে নিজের জীবন আবার ভালোভাবে শুরু করার পরিকল্পনা করতে পারে। " 


তিহার জেলে কাজ করে তিনি খুব খুশী হয়েছিলেন। সাফল‍্যও পেয়েছিলেন। তাঁর কাছে তিহার জেল তখন আর 'নরক' ছিল না, হয়ে উঠেছিল 'ঋষির আশ্রম'। সবুজ মাঠের মধ্যে ভয়ংকর অপরাধ করা অপরাধীদের ধ‍্যান করতে করতে দেখে তাঁর মন আনন্দে ভরে উঠেছিল! বন্দীরা সকলেই কিছু না কিছু ভালো কাছে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ পরীক্ষার জন‍্য তৈরি হচ্ছিল, তো কেউ কারিগরি কাজ শিখছিল। সত্যিই আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল



জাতিসংঘ 

২০০৩ সালে, বেদি প্রথম ভারতীয় এবং প্রথম মহিলা যিনি জাতিসংঘের পুলিশ প্রধান এবং জাতিসংঘের শান্তি অপারেশন বিভাগের পুলিশ উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হন। 


পদত‍্যাগ  

তিনি ২০০৭ সালে সামাজিক সক্রিয়তা এবং লেখালেখিতে মনোনিবেশ করার জন্য পদত্যাগ করেন।

পুরস্কার এবং সম্মান : 

তিনি অনেক পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছিলেন। কিছু পুরস্কার তিনি ব‍্যক্তিগতভাবে নিতে চান নি। যেমন - এশিয়ান গেমসের সময় ভালো করে ট্র্যাফিক পরিচালনা করার জন্য "এশিয়ান জ্যোতি" পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি পুরস্কারটি নিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং কর্তৃপক্ষকে পুরো ট্রাফিক পুলিশ ইউনিটের কাছে পুরস্কারটি উপস্থাপন করতে বলেছিলেন।


  • ১৯৬৮ সালে এনসিসি "ক্যাডেট কর্মকর্তা পুরস্কার" পান। 
  • ১৯৭৯ সালে "রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক" পান  বীরত্বের জন্য।আকালি-নিরঙ্কারি সংঘর্ষের সময় সহিংসতা প্রতিরোধে তাঁর ভূমিকার জন‍্য এই পুরস্কার পান।  
  • ১৯৯১ সালে "এশিয়া অঞ্চল পুরস্কার " পান 'ইন্টারন্যাশনাল অর্গানিজশন অফ গুড টেম্পলার্স, নরওয়ে'- এর তরফ থেকে 'ড্রাগ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ'-এর জন‍্য। 
  • ১৯৯৪ সালে "রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার" এবং "জওহরলাল নেহেরু ফেলোশিপ"-এ ভূষিত হয়েছিলেন তিহার জেলে বিভিন্ন সংস্কার প্রবর্তন করার জন‍্য। 
  • ১৯৯৫ সালে,লায়ন্স ক্লাব, কে কে নগর কমিউনিটি সার্ভিস থেকে "লায়ন অফ দ্য ইয়ার" হন। 
  • ১৯৯৫ সালে Fr Maschio Humanitarian Award Fr Maschio Platinum Jubilee Celebration Committee, Don Bosco Matunga সামাজিক সংস্কার এবং সম্প্রদায় সেবা। 
  • ১৯৯৭ সালে Joseph Beuys পুরস্কার Joseph Beuys Foundation, Germany Holistic and Innovative Management (কারাগার সংস্কার)। 
  • নবজ্যোতি দিল্লি পুলিশ ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে 'সার্জ সোটিরফ মেমোরিয়াল পুরস্কার' পেয়েছে।
  • ১৯৯৯ সালে, 'প্রাইড অফ ইন্ডিয়া আমেরিকান ফেডারেশন অফ মুসলিম অফ ইন্ডিয়ান অরিজিন' (AFMI) মানব কল্যাণের প্রতি অঙ্গীকার-এর জন‍্য সম্মান করা হয়।  
  • ১৯৯৯-২০০০ 'আইআইটি দিল্লি অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি' - দিল্লি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন জাতীয় উন্নয়নে অসামান্য অবদান। 
  • ২০০১ সালে, 'মরিসন টম গিচফ অ্যাওয়ার্ড' 'ওয়েস্টার্ন সোসাইটি অফ ক্রিমিনোলজি', মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকশন যা ভারতে ন্যায়বিচারের গুণমানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। 
  • ২০০৪ সালে জাতিসংঘ পদক পান অসামান্য সেবার জন্য। 
  • ২০০৫ সালে জেল ও দণ্ড ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অল ইন্ডিয়া খ্রিস্টান কাউন্সিল কর্তৃক 'মাদার তেরেসা মেমোরিয়াল ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর সোশ্যাল জাস্টিস' দেওয়া হয়। 
  • তিনি ২০০৫ সালে অখিল ভারতীয় তেরাপন্থ মহিলা মন্ডল দ্বারা 'আচার্য তুলসী কর্তৃত্ব' পুরস্কারে ভূষিত হন।
  •  ২০০৫ সালে, CUNY স্কুল অফ ল তার "কারাগারের সংস্কার এবং পুলিশিং করার জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির" স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানসূচক 'ডক্টর অফ ল' ডিগ্রী প্রদান করে। 
  • ২০০৬ সালে 'দ্য উইক ম্যাগাজিন' দ্বারা দেশের সবচেয়ে প্রশংসিত মহিলা হন। 
  • ২০০৮ FICCI পুরষ্কার অফ এক্সিলেন্স FICCI লেডিস অর্গানাইজেশন একজন অসামান্য মহিলা অর্জনকারী হয়েছিলেন। 
  • ২০০৮ সালে  'কুমারাপ্পা-রেকলেস অ্যাওয়ার্ড  ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ক্রিমিনোলজি' ফৌজদারি বিচার প্রশাসনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন‍্য পান। 
  • ২০১৩ 'নোমুরা পুরস্কার' পান নোমুরা গ্রুপ-এর কাছ থেকে মানবিক কাজের জন‍্য। 
  • ২০১৪ সালে, ''ওরিয়াল প্যারিস ফেমিনা উইমেন অ্যাওয়ার্ড' পান ল'ওরিয়াল এবং ফেমিনা সামাজিক প্রভাবের জন‍্য। 

 

লেখক কিরণ বেদী

তাঁর মতো মানুষকে নিয়ে অনেকেই লেখালেখি করেছেন, যেমন- শিবানী অরোরা (২০২০)। " Where Kindness Spoke: Best Practices of a Lieutenant Governor Dr. Kiran Bedi Through Her Leadership” ।

 আবার তিনি নিজেও যথেষ্ট দক্ষ লেখিকা হিসাবে নাম করেছেন।তিনি লেখালেখি করতে খুবই পছন্দ করেন। ডঃ বেদী অনেক বই লিখেছেন। 

কিরণ বেদী ১৩ই জানুয়ারী, ২০১৬-এ নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর লেখা বই "  Dr. Kiran Bedi : Creating Leadership " উপহার দিয়েছিলেন। 




কিরণ বেদী নিম্নলিখিত রচনাগুলি রচনা করেছেন:

  • কিরণ বেদী (১৯৮৫) -  "  Demand for Swaraj: (1905–1930) "। 
  • কিরণ বেদী পরমিন্দর জিত সিং সন্দীপ শ্রীবাস্তব (২০০১) -  Government @ Net: New Governance Opportunities for India
  • কিরণ বেদি (২০০৩) - " As I see "। 
  • কিরণ বেদি, টি এম ডাক (২০০৫) -  “What Went Wrong?…….And Continues । এই বই পরবর্তীতে লীনা সোহনি কর্তৃক মারাঠি ভাষায় অনূদিত হয়।
  • কিরণ বেদি (২০০৬) -  "  It's Always Possible: One Woman's Transformation of Tihar Prison "। এই বইটিও মারাঠি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে
  • কিরণ বেদি (২০০৬) -  "গালতি কিসকি" (হিন্দিতে)। 
  • কিরণ বেদি (২০০৬)- "ইয়ে সম্ভব হ্যায়" (হিন্দিতে)। 
  • কিরণ বেদি (২০০৮)- "  Empowering Women… As I See… by Kiran Bedi "মাধুরী শানভাগ দ্বারা মারাঠি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে -"अ‍ॅज आय सी… सामनेचे सक्षमीकरण…"
  • কিরণ বেদি (২০০৮) -  " Leadership & Governance… As I See "।মাধুরী শানভাগ দ্বারা মারাঠি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে - "ऍज आय सी… नेतृत्व आणि प्रशासन…" 
  • কিরণ বেদি (২০০৮)-  " Indian Police… As I See… "। মাধুরী শানভাগ কর্তৃক মারাঠি ভাষায় অনুদিত -" अॅज आय सी… भारतीय पोलीस सेवा…" 
  • কিরণ বেদী পবন চৌধুরী (২০১০) -  "  Broom & Groom "।এই বইটি মারাঠি, গুজরাতি ও  হিন্দি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। 
  • কিরণ বেদি -  " Be the Change: Fighting Corruption"
  • কিরণ বেদি (২০১২)- " Dare to Do, for the New Generation"।"নিडर बनो "হিসাবে হিন্দিতে অনুবাদ করা হয়েছে। 
  • কিরণ বেদি পবন চৌধুরী (২০১৩)-  “Uprising 2011: Indians Against Corruption 
  • কিরণ বেদি (২০১৬) “Dr. Kiran Bedi : Creating Leadership. "
  • কিরণ বেদি (২০১৬)-  "হিম্মত হ্যায় কিরণ বেদি"। 
  • কিরণ বেদি (২০২২) -  " Fearless Governance"। 

পুদুচেরির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং আইপিএস (অবসর প্রাপ্ত) ডক্টর কিরণ বেদির বই 'Fearless Governance' হল শাসনের চরম বাস্তবতার একটি প্রকাশ। এই বইটি পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসাবে ডাঃ বেদীর প্রায় পাঁচ বছরের চাকরি এবং ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় তাঁর ৪০ বছরের বিশাল অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। লেখক দায়িত্বশীল শাসনের সঠিক অনুশীলন প্রদর্শন করেছেন। তিনি নির্ভীক নেতৃত্বের মাধ্যমে দলগত মনোভাব, সহযোগিতা, আর্থিক বিচক্ষণতা, কার্যকর পুলিশিং, পরিষেবাগুলিতে বন্ধন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলি সামনে নিয়ে আসেন। 'ফিয়ারলেস গভর্ন্যান্স' সুশাসন এবং নেতৃত্বের জন্য পড়ার, দেখার, শোনা এবং অনুভব করার মতো একটি বই। এটি ফটোগ্রাফ, গ্রাফিক্স এবং ছোট ভিডিও দিয়ে চিত্রিত করা হয়েছে, যা QR কোডের মাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায় 

পেপসিকোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং সিইও ইন্দ্রা নুইয়ের ভাষায়, "Fearless Governance হল একটি ভাল এবং কার্যকর শাসনের নীল নকশা। সরকারী ও বেসরকারী খাতে নেতৃত্বের অনুশীলনগুলি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে "। 

 

সামাজিক কাজ : 

তিনি মেয়েদের জন‍্য প্রচুর কাজ করেছেন এবং করছেন।  শিক্ষার ব‍্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন এবং করছেন। তিনি বেশ কিছু NGO পরিচালনা করেন  

NGO গুলি হল - 'ইন্ডিয়া ভিশন ফাউন্ডেশন' 'নবজ্যোতি ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন' 

২০০৮-১১ সালের মধ্যে তিনি একটি আদালতের প্রদর্শনী  "আপ কি কাচেরি" হোস্ট করেছিলেন যা জনসাধারণের বাস্তব জীবনের বিরোধের উপর ভিত্তি করে ছিল।

রাজনৈতিক জীবন : 


২০১১ সালের ভারতীয় 'দুর্নীতি মুক্ত' ( IAC ) আন্দোলনের প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন। সঙ্গী ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আন্না হাজারে 

পরবর্তীকালে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে 'ভারতীয় জনতা পার্টি'তে যোগ দেন। দলে যোগদানের পর, তিনি ২০১৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রার্থী রূপে প্রতিযোগিতা করেন। অবশ্য এএপি (AAP) প্রার্থী এসকে বাগ্গার কাছে কৃষ্ণনগর আসন থেকে ২২৭৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

পুদুচেরির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর : 

২২শে মে ২০১৬-এ, বেদীকে পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ২৯ শেমে ২০১৬-এ পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসাবে শপথ নেন এবং শপথ ​​অনুষ্ঠানে সমবেত ভাষণ দিয়ে সম্মেলন ভেঙে দেন। তিনি বলেছিলেন যে তিনি "পুদুচেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে একটি সমৃদ্ধ পুদুচেরি করার জন্য একটি মিশনে আছেন" এবং "এই মিশনে কাজ করার জন্য অফিসারদের টিইএ (ট্রাস্ট, ক্ষমতায়ন, জবাবদিহিতা) মন্ত্র" দিয়েছিলেন। 

দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজ ছিল জনসাধারণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। রাজপালের বাসভবন 'রাজ নিবাস' হয়ে গিয়েছিল 'জনগণের নিবাস'। এই প্রক্রিয়াটিকে 'ওপেন হাউস' বলা হত। জনগণ সোমবার থেকে বুধবার বিকেল ৫ টায় রাজ নিবাসে গিয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে পারতেন।তিনিও তাঁদের অভিযোগের সমাধান করার চেষ্টা করতেন।নির্দিষ্ট কিছু সমস্যার জন‍্য শহরে সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন - এই অভিযোগ পাওয়ার পর, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সপ্তাহের শেষে সকালে সাইকেলে, পায়ে হেঁটে, গাড়িতে বা কখনও কখনও  এমনকি বাস এবং অন্যান্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঘুরে ঘুরে চারদিকে নজর রাখতে শুরু করেছিলেন। এই সময় তিনি অনেক কাজ করেছিলেন যা সত্যিই প্রশংসাযোগ‍্য। যেমন - স্যানিটেশন সমস্যাগুলির সমাধান করেন, জলের পাইপ লাইন ঠিক করেন, আবর্জনার সমস্যার সমাধান করেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন‍্য উৎসাহ করেন এবং সমুদ্র সৈকতে যাতে মানুষের আনাগোনা বাড়ে তার জন‍্য উপযুক্ত ব‍্যবস্থা করেন। 'জনগণের নিবাস' হিসাবে এখানে সব ধর্মের উৎসব পালন করে ধর্মীয় সৌহার্দ্যের বার্তা দেন। 

২০১৯ সালে, ৭০ তম জন্মদিনে পুদুচেরির কানাগান হ্রদের ধারে চারা রোপণের মাধ্যমে 'মিশন গ্রিন পুদুচেরি' শুরু করেছিলেন। তারপর থেকে, অনেক ছাত্র এবং স্বেচ্ছাসেবক বৃক্ষ রোপণ ড্রাইভ সংগঠিত করে এটি এগিয়ে নিয়ে গেছে। মেডিকেল ভর্তি মামলায় ন্যায়বিচারের জন্য কিরণ বেদীর লড়াই লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসাবে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলির মধ্যে একটি। তিনি স্বার্থের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং মেডিকেল আসন পেতে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণে সহায়তা করেছেন। 


সাইকেল র‍্যালি :
ব্যক্তিগতভাবে শহরের চারপাশে র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন, মানুষের সাথে দেখা করেন এবং এমনকি তাদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করেন। তিনি ' কারাইকাল সাইকেল র‌্যালির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 

পদত‍্যাগ :  তিনি ১৬ই ফেব্রুয়ারী ২০২১-এ পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র এবং টিভি প্রোগ্রাম -  ডা. কিরণ বেদির জীবনের উপর ভিত্তি করে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ভাষায় চলচ্চিত্র, তথ‍্যচিত্র এবং টিভি অনুষ্ঠান হয়েছে। কিছু অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিকভাবে খ‍্যাতি ও পুরস্কার লাভ করেছে। 

যেমন :

  • নরওয়েজিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়েস্টেইন রাকেনেসের একটি তথ্যচিত্র। ২০০৬ সালে আটলান্টায় ইন্দো-আমেরিকান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা ডকুমেন্টারি পুরস্কৃত করা হয়।
  • অস্ট্রেলিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা মেগান ডনেম্যান এই তথ‍্যচিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। হেলেন মিরেন দ্বারা বর্ণিত এটি ছয় বছর ধরে চিত্রায়িত হয়েছিল এবং ২০০৯ সালে প্রিমিয়ার হয়েছিল। এটি সান্তা বারবারা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ডকুমেন্টারি নির্বাচিত হয়।
  •  কার্ভ ইওর ডেসটিনি, অনুভব শ্রীবাস্তব পরিচালিত ২০১৪ সালের একটি চলচ্চিত্রে বেদী অভিনয় করেছিলেন।
  • কিরণ বেদী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সিরিজ "মেগা আইকনস" (2018) এ প্রদর্শিত হয়েছিলেন, যা তাঁর জীবনকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিতর্কগুলি : 

এত ভালো কাজ করা সত্ত্বেও বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে নি এত নিন্দা সহ‍্য করেও তিনি মাথা উঁচু করে থেকেছেন। কিরণ বেদি মনে করতেন যতই নিন্দা হোক না কেন তিনি সত‍্যের পথে আছেন, তাই কোনও ভয় নেই

জাউরি ব্রিজ : ১৯৮৩ সালে কিরণ বেদি গোয়ায় SP রূপে কাজ করছিলেন। সাধারণ মানুষের জন‍্য জাউরি ব্রিজ উদ্বোধন করে তিনি বিতর্কের মধ্যে পড়েছিলেন। এই উদ্বোধন বহু রাজনীতির নেতাদের বিরক্তির কারণ হয়েছিল। 

কন‍্যাকে নিয়ে : ছোট্ট বেলায় তাঁর মেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। অসুস্থ মেয়েকে দেখাশোনা করার জন‍্য তিনি ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটির জন‍্য তিনি আবেদন করেছিলেন এবং সেই আবেদন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দ্বারা সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু গোয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটিটি অনুমোদন করেনি। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রতাপসিং রানেও তাঁকে পলাতক এবং ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত ঘোষণা করেছিলেন।

তখন তাঁর মিজোরামে পোস্টিং ছিল। ১৯৯২ সালে তাঁর মেয়ে দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে পড়ার জন‍্য আবেদন করেন। সুকৃতি  মিজোরামের বাসিন্দাদের জন্য রাখা কোটার সিটে আবেদন করে বসেন। এরফলে মিজোরামের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করে। তাদের বক্তব্য, মিজো না হয়েও সুকৃতি তাদের বরাদ্দ সিটটি নিয়ে মিজোদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে পরে এ কারণে কিরণ বেদিকে মিজোরাম ছাড়তে হয় । 

বিজেপির সমাবেশে লাঠিচার্জ : লাল কেল্লায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমাবেশে লাঠিচার্জের আদেশের জন্য বেদির নিন্দা করা হয়েছিল।

উকিলকে হাতকড়া পরানোর জন‍্য : ১৯৮৮ সালে, রাজেশ অগ্নিহোত্রী নামে একজনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করার সময় কিরণের সাথে দিল্লির আইনজীবীদের সংঘর্ষ হয়। পরে ওই ব্যক্তিকে তিস হাজারী আদালতে প্র্যাকটিস করা আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিরণকে তখন আইনজীবীদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল কারণ একজন আইনজীবী গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে হাতকড়া পরানো যায় না।

তিহার জেলে : বেদী যখন তিহার জেলের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) হিসাবে কাজ করছিলেন তখন বন্দীদের ও জেলের অবস্থা ঠিক করার জন‍্য অনেক কাজ করেছিলেন। সেইজন‍্য পুরস্কৃতও হয়েছিলেন। তবে কিছুজনের সেইকাজ ভালো লাগে নি। বেদীর কিছু ঊর্ধ্বেতনরা তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। বলেন, কিরণ ব‍্যক্তিগত গৌরবের জন‍্য এইসব কাজ করছেন। সেইজন‍্য কারাগারের নিরাপত্তা হ্রাস করছেন। 

বন্দীর চিকিৎসা : ১৯৯৩ সালে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বেদীকে সতর্ক করেছিল বিচারাধীন বন্দীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নির্দেশনা উপেক্ষা করার জন্য।

ওয়াশিংটন ডি.সি : ১৯৯৪ সালে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের দ্বারা বেদীকে ওয়াশিংটন, ডিসি-তে জাতীয় প্রার্থনা প্রাতঃরাশে আমন্ত্রণ জানানো হলে কিরণ দিল্লি সরকারের ঈর্ষার সম্মুখীন হন। দিল্লি সরকার তাঁর সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। ১৯৯৫ সালে, বিল ক্লিনটন তাঁকে আবার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং দিল্লি সরকার আবার তাঁর আমন্ত্রণ পত্রটি খারিজ করে দিয়েছিল। তখনই তিনি 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এ একটি নিউজলেটার প্রকাশ করেন; যাতে শাসনব্যবস্থায় তাঁর উত্থানের জন্য, ঈর্ষা করার জন্য তাঁর কিছু উর্ধ্বতনদের সমালোচনা করা হয়।

চার্লস শোভরাজ : তিহার জেলে বন্দী কুখ্যাত অপরাধী চার্লস শোভরাজকে টাইপরাইটার দেওয়ার জন্য কিরণ বেদীর নিন্দা করা হয়েছিল। কারাগারের ম্যানুয়াল অনুসারে, একটি টাইপরাইটার নিষিদ্ধ আইটেমের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

NGO কেস  : অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আন্না হাজারের সাথে তিনিও 'দুর্নীতি মুক্ত' ক‍্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু অবাক করা ব‍্যাপার হল,তাঁর নামেই দুর্নীতি করার অভিযোগ করা হয়েছিল। ২৬ শে নভেম্বর ২০১১ সালে কেসটি করা হয়েছিল দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ থেকে তাঁর NGOs সংস্থাটি মিথ্যা কথা বলে টাকা তুলেছে - এই বলে কেস করা হয়েছিল।পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে নভেম্বর মাসেই দিল্লি পুলিশ এই কেসটি তুলে নেয়। বলা হয় সব কিছু পরিষ্কার আছে। তিনি বা তাঁর সংস্থা গাফিলতি করে নি। 

পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গর্ভনর থাকার সময় : কিরণ বেদীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস বারবার বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছিল৷ লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে কিরণ বেদীর অপসারণে সন্তোষ প্রকাশ করছিলেন পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী। তাঁর মতে, এই ঘটনা 'জনগণের জয়'। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নানা কল্যাণমূলক প্রকল্প কিরণ আটকে রেখেছিলেনকিরণ বেদীর অপসারণের আনন্দে বাজি ফাটিয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে উদযাপন করেন কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা।ধন‍্য রাজনীতি বটে যে মানুষ সাধারণের জন‍্য এত কাজ করেন তিনি জনগণের সেবার কাজ আটকে দেবেন

 

যাইহোক তিনি এখনও আমাদের জন‍্য এই ৭২ বছর বয়সেও কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নিজের 'কিরণ বেদি' নামে একটি ইউটিউব চ‍্যানেল আছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন। শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী করার শিক্ষা দেন। নৈতিক শিক্ষা দেন। 

লড়াই করেও মাথা উঁচু করে কীভাবে বাঁচতে হয় তা তাঁর কাছ থেকে শেখা উচিত। আমরা আমাদের লেখার মাধ্যমে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলাম। 


 কলমে - সোমা লাই 


চিত্র ঃ সংগৃহীত 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন